নির্বাচনের দিনগুলোতে লেনদেনে কড়াকড়ি: মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় নতুন বিধিনিষেধ

আসন্ন নির্বাচনে অবৈধ অর্থের লেনদেন ও ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রোধে এক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রবিবার রাত ১২টা থেকে শুরু করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত টানা চার দিন মোবাইল ব্যাংকিং বা এমএফএস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত থাকবে। মূলত নির্বাচনের মাঠে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটের চারপাশের দিনগুলোতে অর্থের অপব্যবহার রুখতেই ৯৬ ঘণ্টার এই বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এই সময়সীমার মধ্যে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো জনপ্রিয় এমএফএস সেবা ব্যবহারকারী গ্রাহকরা আগের মতো বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে পারবেন না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা ‘পিটুপি’ লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন থেকে প্রতিবার সর্বোচ্চ মাত্র এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে। এভাবে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন। এর বাইরে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য নিয়মিত সেবাও এই সময়ে সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জরুরি প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস বা অন্যান্য পরিষেবার বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মগুলো আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। অর্থাৎ কেনাকাটা বা বিল দিতে কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না গ্রাহকদের।

একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আইবিএফটি বা এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর যে সুবিধা, সেটি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এই চার দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে একটি নিজস্ব ‘জরুরি রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধ বা অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে আসা মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানাতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সময়ে বিশেষ নজরদারি বা ক্লোজ মনিটরিং বজায় রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top