দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: মিরপুরে তারেক রহমানের নির্বাচনি ভাষণ

রাজধানীর মিরপুরে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এক সাহসী ও জনকল্যাণমুখী রূপরেখা তুলে ধরেছেন। পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে ঢাকা-১৬ আসনের এই জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা আপসহীন নীতি গ্রহণ করা হবে। তার মতে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন ঘটাতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা অপরিহার্য। গত দেড় দশকের শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে বড় বড় প্রকল্পের আড়ালে যে ব্যাপক লুণ্ঠন ও দুর্নীতি হয়েছে, তাতে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ লাভবান হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের কোনো উন্নতি হয়নি।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়ার এখনই উপযুক্ত সময়। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তিনি জাতির ভাগ্য নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন এবং জনগণকে সঠিক নেতৃত্বের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করাই রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, বরং জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধান ও ভাগ্য পরিবর্তন করাই বিএনপির রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে বিএনপির পক্ষ থেকে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর পাশাপাশি কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে সুদে-আসলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। স্থানীয় ঢাকা-১৬ আসনের ভোটারদের জন্য তিনি একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও যারা উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের বিদেশ যাত্রার পথ সহজ করতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও বিএনপির সরকার করবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

রাজধানীর অন্যতম প্রধান নাগরিক সমস্যা জলাবদ্ধতা ও পানি সংকট নিরসনে তারেক রহমান সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ঢাকার বেদখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করে পুনরায় খনন কর্মসূচি জোরদার করবে। এই কর্মসূচি কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশের নদ-নদী ও খাল পুনঃখননের কাজেও বিস্তৃত করা হবে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে বিএনপি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে তিনি নির্বাচনি সভায় প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর বক্তব্যের শেষভাগে তিনি দেশপ্রেমের এক প্রবল আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, সব কিছুর ঊর্ধ্বে দেশ এবং যেকোনো মূল্যে এই দেশকে একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top