বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত ভাষণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এক নতুন রূপরেখা পেশ করেছেন। প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘ইসলাম’কে অনুসরণের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, কেবল আইনি সংস্কার নয়, বরং জনমানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থাই দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন মূলনীতি ও ইনসাফ
চরমোনাই পীর তাঁর ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শরিয়াহ কেবল কিছু দণ্ডবিধির নাম নয়, বরং এটি মানুষের জীবনবোধ, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক নিরাপত্তার এক পূর্ণাঙ্গ সমষ্টি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে:
-
আদালত ও ইনসাফ: রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
-
নাগরিক অধিকার: সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
-
পিআর (PR) পদ্ধতি: জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation) পদ্ধতি চালু করা হবে।
ভোটের পরকালীন গুরুত্ব: ভোটারদের প্রতি সতর্কতা
ভোটকে কেবল একটি রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সুপারিশ’ বা সাক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন পীর সাহেব। তিনি সতর্ক করে বলেন:
“ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়ই নয়, বরং এটি একটি পরকালীন বিষয়। আপনি যদি ভুল জায়গায় ভোট দেন, তবে আপনার আমলনামায় সেই ব্যক্তি বা নীতির করা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। কোনো অপরাধ না করেও ভুল সুপারিশের কারণে পরকালে জবাবদিহি করতে হতে পারে।”
ইশতেহারের ৫টি মৌলিক স্তম্ভ
ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহারকে প্রধানত ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর একটি সংক্ষিপ্ত সারণি নিচে দেওয়া হলো:
| বিভাগ | প্রধান কর্মসূচি ও ফোকাস |
| নীতিগত অবস্থান | সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতির পরিপালন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। |
| রাষ্ট্র সংস্কার | মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্ষা বাস্তবায়ন; ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা। |
| সুশাসন ও দুর্নীতি | দুর্নীতির মূলোৎপাটন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। |
| প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র | স্বনির্ভর বহুমাত্রিক ডিফেন্স সিস্টেম এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্মানজনক বৈদেশিক সম্পর্ক। |
| অর্থনীতি ও সেবা | রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ এবং সৎ ও জনসেবামূলক প্রশাসন গড়ে তোলা। |
তারুণ্য ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
ভাষণের শেষভাগে তিনি তরুণ প্রজন্মকে তাদের প্রথম ভোটটি ‘পরিবর্তনের’ এবং ‘ইসলামের’ পক্ষে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো ভয় বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে দেশ ও জনতার স্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন।







