হাদি হত্যার বিচারে জাতিসংঘের তদন্তের উদ্যোগ, ৮ তারিখ রবিবার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে

শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর ‘যমুনা’র সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা মারণাস্ত্র ব্যবহার করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুধুমাত্র সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এ সময় ২৩ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে সরকার জানিয়েছে, আহতদের কারও শরীরেই গুলির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা বিক্ষোভ আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান নিলে পুলিশ প্রথমে ধৈর্য প্রদর্শন করে এবং কোনো বল প্রয়োগ করেনি। তবে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা জলকামানের ওপর উঠে গেলে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করলে পুলিশ আইনানুগভাবে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সুনিশ্চিত করেছে যে, পুরো প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেছে এবং কোনো ধরনের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়, সেজন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আগামী রোববার জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। সরকার মনে করে, বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি প্রকৃত তথ্যের অপলাপ মাত্র।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় দেশবাসীকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনের দিকে এখন সারা বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা অপরিহার্য। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের প্রতি সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top