দ্য উইকে মির্জা ফখরুল: ‘রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখন অপ্রাসঙ্গিক, ভারত সম্পর্কের পথেও তিনি কোনো বাধা নন’

ভারতীয় ইংরেজি সাময়িকী ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অদূর ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে আর কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারবেন না। তাঁর মতে, অতীতের কোনো এক সময়ে তিনি একটি রাজনৈতিক পক্ষ বা ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে শেখ হাসিনা আর কোনো স্থায়ী বাধা বা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না বলেই তিনি মনে করেন। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে সংস্কৃতি শেখ হাসিনা গড়ে তুলেছিলেন, তা দেশের রাজনীতিতে গভীর সংকট তৈরি করেছে। তবে এই সংকট কাটিয়ে উঠে দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং সময়ের প্রয়োজনে সেটাই করা উচিত।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে মির্জা ফখরুলের পর্যবেক্ষণ হলো, দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না থাকায় আওয়ামী লীগ হয়তো সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। তবে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়াতে পারেন। একটি বড় দলের অনুপস্থিতি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন যে আওয়ামী লীগের থাকা না থাকা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের সাধারণ মানুষ এখন একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছর ধরে দেশের ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি এক বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যারা কখনো স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি, তারা এবার ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। বর্তমান নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার সদিচ্ছা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচার-প্রচারণার সময় ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন সমস্যা দেখা দিলেও সেগুলো সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা হিসেবে দেখছে যেখানে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণই হবে মূল ভিত্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top