লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ সিল উদ্ধার: জামায়াত নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে অবৈধ নির্বাচনি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শহরের পুরোনো আদালত রোডের ‘মারইয়াম প্রেস’ থেকে ভোটের কাজে ব্যবহারের উপযোগী ছয়টি জাল সিলসহ মালিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে এ ঘটনায় সোহেল রানা এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনই এই সিলগুলো তৈরির ফরমাশ দিয়েছিলেন। যদিও ঘটনার পর থেকেই সৌরভ পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিল উদ্ধারকে বড় ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচনি কারচুপির একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই চক্রটি হয়তো আরও অনেক স্থানে এ ধরনের সিল ও জাল ব্যালট পেপার তৈরির পরিকল্পনা করছে। প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই জালিয়াতির পেছনের মূল কুশীলবদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা ভোটের দিন বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। দলটির স্থানীয় প্রার্থী রেজাউল করিম পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রেস মালিক সোহেল রানার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। সৌরভ হোসেনকে এই মামলায় জড়ানোকে তিনি ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে ফেলা এক শ্রেণির রাজনীতিকদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। জামায়াত এই সিল তৈরির ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন বর্তমানে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ জানিয়েছেন, এসব সিল ভোটারদের ভোটদানের বিষয়ে হাতে-কলমে শেখানোর জন্য নাকি নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপারে সিল মেরে কারচুপি করার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দকৃত আলামত হিসেবে সিলের পাশাপাশি একটি কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোনও পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, পলাতক সৌরভ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে এই জালিয়াতি চক্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top