ইকোনমিস্টের চোখে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান

ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক মানচিত্রের এক নতুন সমীকরণ উঠে এসেছে। গত দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানকেই সবার চেয়ে এগিয়ে দেখছে সাময়িকীটি।

লন্ডন থেকে দেশে ফেরার রাজকীয় সংবর্ধনা থেকে শুরু করে বর্তমান জনমত জরিপ—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের শাসনভার তারেক রহমানের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে জোরালো।

ইকোনমিস্টের বিশেষ বিশ্লেষণে যা উঠে এল

  • বিপ্লবোত্তর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা: ইকোনমিস্ট বলছে, এই নির্বাচন কেবল একটি সাধারণ ভোট নয়; এটি শেখ হাসিনা পরবর্তী ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি বিপ্লবের ফসল। প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর ভোটাররা, বিশেষ করে যারা গত ২০ বছরে কখনো ভোট দিতে পারেননি, তারা এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ।

  • কেন তারেক রহমানই শীর্ষে? বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নারী প্রার্থী না থাকা এবং তাদের অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে শহুরে মধ্যবিত্তের ভীতি তারেক রহমানের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে জনমত জরিপে বিএনপি এককভাবে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

  • পরিবর্তিত নেতা: পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে সাময়িকীটি জানিয়েছে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘পরিপক্ক’ ও ‘ভিন্ন’ মনে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে প্রতিশোধের বদলে এখন গঠনমূলক রাষ্ট্র সংস্কার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুর বেশি শোনা যাচ্ছে। যেমন- “তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন: প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারও জন্যই ভালো কিছু বয়ে আনে না। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

ভবিষ্যৎ রূপকল্প: খাল খনন থেকে ট্রাম্পের সাথে কূটনীতি

তারেক রহমান কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর নয়, বরং সুনির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অঙ্গীকার দিয়ে নজর কেড়েছেন। তাঁর ‘নিউ বাংলাদেশ’ ভিশন এক নজরে:

সেক্টর প্রধান প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্য
পরিবেশ ও জলবায়ু বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো এবং পানির সংকট মেটাতে ২০ হাজার কিমি খাল খনন
কর্মসংস্থান তরুণদের বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির উপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান।
পররাষ্ট্রনীতি ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানো এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ‘ব্যবসায়িক ও বাস্তববাদী’ কূটনীতি।
সুশাসন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করা এবং নতুন উচ্চকক্ষ গঠন।
বিচারব্যবস্থা ২০২৪-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বর্জন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top