সুনামির মতো ধেয়ে আসা মূল্যস্ফীতির বাজারে পিঠ ঠেকে যাওয়া সরকারি কর্মচারীরা এবার চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ এক নজিরবিহীন ও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনের নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তিন দিন সারা দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে স্থবিরতা নেমে আসবে। ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি, অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ পালন করবেন কর্মচারীরা। যদি এই সময়ের মধ্যেও সরকার তাঁদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে এক বিশাল ‘ভুখা মিছিল’ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
গেল ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের সদস্য ও নেতারা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন। সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন যে, গত সাত বছর ধরে তাঁরা অত্যন্ত ধৈর্য ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছেন। এমনকি ৫ ডিসেম্বরের বিশাল মহাসমাবেশের পরও প্রশাসনের টনক নড়েনি। গত ২১ জানুয়ারি বেতন কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও সেটি গেজেট আকারে প্রকাশ না করে নতুন করে কমিটি গঠন করার বিষয়টি কর্মচারীদের কাছে সময়ক্ষেপণের একটি অপকৌশল হিসেবে মনে হচ্ছে। এর ওপর জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্য, যেখানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে দাবানলের মতো ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছে।
কর্মচারীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্তমান আকাশচুম্বী বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা। এর পাশাপাশি তাঁরা ২০১৫ সালের পে-স্কেল থেকে বাদ পড়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বেতনের জ্যেষ্ঠতা রক্ষা এবং গ্রাচুইটির হার শতভাগে উন্নীত করার দাবিটিও বেশ জোরালো। কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা, ব্লক পোস্টে কর্মরতদের প্রতি পাঁচ বছর অন্তর উচ্চতর গ্রেড প্রদান এবং সচিবালয়ের প্রতিটি দপ্তরে অভিন্ন নিয়োগবিধি ও রেশন পদ্ধতি চালুর মতো মৌলিক অধিকারগুলো আদায়ে তাঁরা এবার বদ্ধপরিকর। উন্নয়নের সুফল যেন কেবল ওপরের স্তরে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘ভুখা মিছিলের’ ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।







