কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, একটি পার্শ্ববর্তী দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে, তবে এবার আর সেই আধিপত্যবাদী চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, বাংলাদেশে কারা ক্ষমতায় আসবে বা কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণের একমাত্র মালিক এ দেশের জনগণ। কোনো বিদেশি শক্তি যদি এবারও নির্বাচনে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে এ দেশের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।
নাহিদ ইসলামের মতে, আসন্ন এই নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত সংগ্রামের এক যৌক্তিক ধারাবাহিকতা। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে, এই নির্বাচন তাঁদের সেই ত্যাগেরই ফসল এবং পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক মহান আকাঙ্ক্ষা। তিনি অভিযোগ করেন যে, আধিপত্যবাদী সেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি অপপ্রচার চালাচ্ছে যে ১১ দলীয় জোট কারচুপি ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবে না। গত ১৬ বছর ধরে যারা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার দোসর হিসেবে কাজ করেছে, তারা এখন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো অপশক্তির দাদাগিরি আর বরদাশত করা হবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা দেন।
নির্বাচনোত্তর পরিকল্পনা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন যে, ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সব অসমাপ্ত কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। বিশেষ করে চব্বিশের আন্দোলনে প্রতিটি শহীদের রক্তের হিসাব নেওয়া হবে এবং তাঁদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ সময় তিনি বিশেষভাবে ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাকে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ ওসমান হাদি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই থামবে না।







