টাঙ্গাইলের দরুন-চরজানা বাইপাস সংলগ্ন এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৫ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন। শনিবার রাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীকে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বুকে ধারণ করে রাজপথে এবং ভোটকেন্দ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এবং লুণ্ঠিত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার এক চূড়ান্ত লড়াই। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্র কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পদ নয়, বরং এ দেশের প্রকৃত মালিক একমাত্র সাধারণ জনগণ।
নির্বাচনি এই জনসভায় তারেক রহমান টাঙ্গাইলের স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে টাঙ্গাইলের বিশ্ববিখ্যাত তাঁত শিল্প ও ঐতিহ্যবাহী শাড়িকে তৈরি পোশাক খাতের মতো সরাসরি বিশ্ববাজারে রপ্তানি করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলকে একটি পরিকল্পিত আধুনিক শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এ অঞ্চলের আনারস চাষিদের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তাঁর মতে, টাঙ্গাইলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে তাঁতি ও কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তাঁরা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত হতে পারেন।
জাতীয় পর্যায়ের কল্যাণমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে তারেক রহমান সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। একই সাথে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করে ঘোষণা করেন যে, আলেম-ওলামা, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
ভোটের দিন কোনো ধরনের কারচুপি বা ষড়যন্ত্র রুখতে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, কেবল ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, বরং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান যাতে তাঁরা সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক আমানত রক্ষা করেন। ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মাধ্যমে সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে ভোট বিপ্লব ঘটানোর এই বার্তাটি টাঙ্গাইলের জনসভায় উপস্থিত লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।







