গুমকে একটি অমানবিক ও মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গুমসংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে তিনি বলেন যে, মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবার অন্তত শোক পালনের বা দাফন-কাফনের মাধ্যমে একটি মানসিক সমাপ্তি টানার সুযোগ পায়। কিন্তু গুমের ক্ষেত্রে স্বজনেরা এক অন্তহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান; তারা জানতেই পারেন না তাঁদের প্রিয় মানুষটি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। এই অনিশ্চয়তা কেবল মানসিক যন্ত্রণাই দেয় না, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকট, সামাজিক কলঙ্ক এবং একঘরে হয়ে পড়ার মতো চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
সিম্পোজিয়ামে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সমালোচনা উঠে আসে। কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন স্পষ্ট করে বলেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির দৃশ্যমান বা উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সরকারের সময়কালেও তাঁরা প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার কিংবা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, গুমের মতো জটিল অপরাধের ক্ষত নিরাময় এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের যে সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল, তা এখনো অনুপস্থিত।
বিলিয়ার এই আলোচনা সভায় মানবাধিকারকর্মী এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী ও রাষ্ট্রদূত এম. মারুফ জামানসহ অন্যান্য বক্তারা মানবাধিকারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা কাটিয়ে উঠতে রাষ্ট্রীয় সংহতির আহ্বান জানান। সামগ্রিকভাবে আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করা কেবল আইনি দায়িত্ব নয়, বরং একটি মানবিক দায়বদ্ধতা যা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।







