আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। সম্প্রতি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং তাদের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’ বা পেপস-এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিএনপির জনসমর্থন কেবল পোক্তই হচ্ছে না, বরং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন সাধারণ মানুষের চোখে প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানই সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিআরএআইএন এবং ভয়েস ফর রিফর্মের সহযোগিতায় এই চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরা হয়।
জরিপের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্র। আগে যারা জামায়াতে ইসলামী কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থক ছিলেন, তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একসময়ের সমর্থকদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ এখন বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এটি রাজনীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দলটির সমর্থকদের ৪১ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন থাকলেও একটি বড় অংশই বিএনপির ছায়াতলে আশ্রয় খুঁজছে। অন্যদিকে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে মনে করেন ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ, যা তারেক রহমানের চেয়ে অর্ধেকেরও কম।
ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার জানান যে, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার শহর ও গ্রাম থেকে ৫ হাজার ১৪৭ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এই জরিপ কেবল দলীয় পছন্দ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা নিয়েও মানুষের মতামত গ্রহণ করেছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামীকাল নির্বাচন হলে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন তাঁদের এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবেন। মজার ব্যাপার হলো, বিএনপি তার সম্ভাব্য ভোটের একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পাচ্ছে এমন মানুষদের কাছ থেকে, যারা এর আগে রাজনৈতিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না।
প্রতিবেদনটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে, যা হলো আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে হতে যাওয়া সংবিধানের মৌলিক সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট। ‘জুলাই সনদ’ অনুসারে প্রস্তাবিত এই গণভোটে অংশ নেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের ভোটব্যাংকে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও বিএনপির ভিত্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি সংহত হয়েছে। জরিপের অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ সরাসরি বিএনপিকে বেছে নেওয়ায় নির্বাচনী ময়দানে দলটি এখন এককভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।







