চব্বিশের ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে রংপুরে যাওয়ার পথে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে পৌঁছে তিনি শহীদ আবু সাঈদের সমাধিতে দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফাতেহা পাঠ ও কবর জিয়ারত করেন। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের এই নির্ভীক বীরের আত্মত্যাগকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে স্মরণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এর আগে তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর এই যাত্রাপথে রাস্তার দুপাশে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং তিনি বেশ কয়েকটি স্থানে আয়োজিত পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও প্রদান করেন। আবু সাঈদের বাড়িতে পৌঁছে তারেক রহমান কেবল জিয়ারতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সরাসরি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্ত সময় কাটান। তিনি আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা মকবুল হোসেনের সাথে কথা বলেন এবং তাঁর সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং আবু সাঈদের বাবা তাঁর ছেলে হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করেন। তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
পীরগঞ্জে এই কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সড়কপথেই রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠের উদ্দেশ্যে রওনা হন, যেখানে বিএনপির আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। জিয়ারতের সময় তাঁর সঙ্গে রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।







