নরসিংদী-২ আসনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের এক শক্তিশালী আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘোড়াশাল পোস্ট অফিস রোডে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকে দেশের মানুষ কেবল লুটপাট আর দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দেখেছে। তিনি বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘ শাসন আমলের সমালোচনা করে উল্লেখ করেন যে, এই দুই দলের গৎবাঁধা রাজনীতির বাইরে দেশের মানুষ এখন একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন দেখতে চায়। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে জানান, তাঁদের ১১ দলীয় জোট যদি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল স্তম্ভ হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থান। এই তিনটি মৌলিক বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র মুখপাত্র এবং সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ১১ দলীয় জোট কেবল একটি নির্বাচনি মোর্চা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের পচা-গলা রাজনৈতিক ধারাকে ভেঙে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তিনি মনে করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই জোটে থেকে দেশ সংস্কারের প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে এই জোটের মনোনীত প্রার্থী এবং এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে জয়যুক্ত করার জন্য নরসিংদীবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এই জোটের বিজয় মানেই হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের শোষণের অবসান।
এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের তালিকায় ছিলেন জেলা এনসিপির সদস্য সচিব আওলাত হোসেন জনি, জাতীয় ছাত্র শক্তির ফাহিম রাজ অভি, আবরার হোসাইন রিফাত এবং খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুল আফসার শাহিনসহ আরও অনেকে। সভায় বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অতীতের তিতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম এখন পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এই জনসভাটি এক উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যেখানে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণার অঙ্গীকার করা হয়।







