বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে আসলে কী ধরনের বার্তা দিতে চাইছে, তা স্পষ্ট নয়। উপদেষ্টা মনে করেন, বর্তমান সময়ে দেশের পরিস্থিতি এমন কোনো পর্যায়ে নেই যেখানে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া দেশে কোনো বড় সহিংসতা বা গণ্ডগোল নেই, তাই ভারতের এই ‘সংকেত’ বা সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ উদঘাটন করা কঠিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাদের কর্মচারীদের ফিরিয়ে নেওয়া একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়, তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিক নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে আসুক। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর মতো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। তবে বিশ্বের যেকোনো দেশ বা সংস্থা যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসতে চায়, তবে তাদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা ও ভিসা সুবিধা প্রদান করা হবে। সরকার একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর, আর সে কারণেই বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
ব্রিফিংয়ের অন্য এক পর্যায়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, বহু বছর আগে হাতে লেখা পাসপোর্টের যুগে প্রশাসনিক ত্রুটি এবং ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিল। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার শেষ পর্যন্ত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে উপদেষ্টা বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই পাসপোর্ট পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন; এটি কেবল একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নেওয়া মানবিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত।







