২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। সোমবার, ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে কর্নেল এস এম কামরুল হাসানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সভার প্রারম্ভিক বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় জীবনের বিভিন্ন সংকটকালীন মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পেশাদারিত্বের সাথে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সেজন্য তিনি সরকারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর এই অবদান জাতি সর্বদা শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে।
বৈঠকের মূল আলোচনা আবর্তিত হয় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন যেন কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত, অংশগ্রহণমূলক এবং সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়। প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনীকে কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য, আর এই লক্ষ্য অর্জনে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। এই মতবিনিময় সভায় তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত সুধীজন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।







