ঝিনাইদহের ওয়াজির আলী হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের এক সাহসী রূপরেখা তুলে ধরেন। সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের দুঃসহ স্মৃতি চারণ করে বলেন যে, যারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিল, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান তাদের সেই দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছে। তিনি বিশেষ করে আয়না ঘরের বন্দিদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা স্মরণ করেন এবং ৫ আগস্টের বিজয়কে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে অভিহিত করেন।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন যে, তাদের দল ক্ষমতায় গেলে কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না; বরং অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকা উদ্ধারে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে একটি স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জামায়াত যুবকদের কেবল ‘বেকার ভাতা’ দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, কারণ এটি তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ নয়। বরং প্রতিটি যুবকের হাতের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ঝিনাইদহের স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৫ আগস্টের পর এলাকায় চাঁদাবাজির হার বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের উপার্জনে ভাগ বসানোর চেয়ে ভিক্ষা করাও অনেক ভালো। অনৈক্য ও বিভেদ ভুলে তিনি ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তার সফল সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমীর ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকরের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মতিয়ার রহমান, মাওলানা আবু তালিব, এএসএম মতিউর রহমান এবং মোবারক হোসেন। এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও এনসিপির তারেক রেজাসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।







