দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্লোগান দেওয়ার আগে রাজনৈতিক নেতাদের নিজেদের চারিত্রিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বকশিবাজারের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন যে, যারা ঋণখেলাপিদের সঙ্গী করে সংসদ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেন এবং একই সাথে জনগণকে ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের এসব ‘মন ভোলানো গান’ এদেশের মানুষ আর বিশ্বাস করবে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যদি দেশ গড়ার সদিচ্ছা থাকে তবে আগে বিতর্কিত ও অপরাধী ব্যক্তিদের দল থেকে বর্জন করতে হবে, অন্যথায় জনমতের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে, এই নির্বাচনি ঐক্যের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সত্যিকারের সেবক হিসেবে কাজ করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তাঁদের জোটের প্রার্থীদের বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়ার কোনো অভিপ্রায় নেই, বরং বিজয়ী হলে তাঁরা সাধারণ মানুষের জানমালের পাহারাদার বা ‘চৌকিদার’ হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন। জাতিকে বিভক্ত করার অপরাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন। জামায়াত আমিরের মতে, যারা বিভাজনের কথা বলে তারা আসলে দেশের মঙ্গল চায় না, তাই দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এক বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, পুরান ঢাকাকে কেবল আধুনিক নয়, বরং উন্নয়নের ছোঁয়ায় ‘সোনা’ দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়ার মতো আমূল পরিবর্তন আনা হবে। তিনি দাবি করেন যে, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে দেওয়া প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে এবং আগামীতেও সেই বিশ্বস্ততা বজায় রাখবে। তাঁর এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানায়।
রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৭ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহমান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ১১ দলীয় জোটের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।







