পূর্ণতা পেল জামায়াতের নির্বাচনি জোট: লেবার পার্টির যোগদানে ফের গঠিত হলো ১১ দলীয় জোট

বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রাজনৈতিক মোর্চাটি পুনরায় ১১ দলীয় জোটে রূপ নিল। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই নতুন রাজনৈতিক ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, এর আগে ১১টি দল নিয়ে নির্বাচনি যাত্রার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এটি ১০ দলীয় জোট হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছিল। লেবার পার্টির এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জোটটি তার পূর্ণতা ফিরে পেল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা এটিএম মা‘ছুম এই নতুন সংযুক্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী এবং দেশপ্রেমিক সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন, লেবার পার্টির যোগদান সেই প্রক্রিয়ায় এক নতুন শক্তি জোগাবে। মাওলানা মা‘ছুম আরও উল্লেখ করেন যে, একটি মানবিক, বৈষম্যমুক্ত এবং ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের এই জোটের মূল লক্ষ্য, যা চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে। ইতোমধ্যে জোটের প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং এই নতুন ঐক্য ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জোটে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে, বিগত প্রায় সাড়ে ১৫ বছর ধরে তাঁরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন এবং অতীতেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটে তাঁরা জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার একজন কর্মী হিসেবে তিনি এই বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে শামিল হয়েছেন। যদিও বর্তমান পর্যায়ে নির্বাচনি আসনের ভাগাভাগি নিয়ে নতুন করে দরকষাকষির কোনো সুযোগ নেই, তবুও আদর্শিক এবং নৈতিক জায়গা থেকে তাঁরা এই ঐক্যকে সফল করতে বদ্ধপরিকর।

এই প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ জোটভুক্ত অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রত্যেকেই একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশ পুনর্গঠনে এই ১১ দলীয় জোটের অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরেন। লেবার পার্টির অন্তর্ভুক্তি জোটের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনি মাঠে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top