মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাবেক মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে উপজেলার সোনারং আমতলি মাদ্রাসা মাঠে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের দলীয় প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসাইনের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন যে, চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে এক শ্রেণির ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী এককভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যখন তাঁরা দেশের কল্যাণে সরল মনে রাজনৈতিক পথে চলছিলেন, ঠিক তখনই একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে তাঁদের পথরোধ করার চেষ্টা করেছে। ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলেও এই গোষ্ঠীটি আসলে পবিত্র শরীয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনায় আন্তরিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে চরমোনাই পীর তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে ঐ দলটি এখন মূল ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, প্রকৃত ইসলামপ্রিয় মানুষ এখন সেই সঙ্গ ছেড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছে, যার ফলে ঐ গোষ্ঠীটি এখন চরম জনবিচ্ছিন্ন ও একা হয়ে পড়েছে। রেজাউল করিম প্রশ্ন তোলেন যে, যারা ইসলামের ‘সাইনবোর্ড’ ব্যবহার করে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করে, তারা ক্ষমতায় গেলে কখনোই প্রকৃত ইনসাফ বা ইসলামি শাসন কায়েম করবে না; বরং তারা কেবল নিজেদের আখের গোছাতে এবং ক্ষমতার মোহে মত্ত থাকবে।
নির্বাচনি জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, সম্প্রতি গঠিত জোটের মধ্যে এক ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। জোটের অন্যান্য ইসলামি ঘরানার দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না রেখে তাঁদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলেও, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিটি আসনেই সুপরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলকে তিনি ‘আটকে রাখা এবং বের করে দেওয়ার’ এক সুগভীর চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তাঁদের দলকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা মাত্র, যা সচেতন ভোটাররা রুখে দেবেন।
জনসভার শেষাংশে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে তাঁর দলের মনোনীত প্রার্থী কে এম বিল্লাল হোসাইনকে ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি শাসন ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্য নিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে হাতপাখার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন। এই জনসভায় স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে নির্বাচনি প্রচারণা সফল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







