আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেব; তরুণদের সাথে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের খোলামেলা আলাপ

রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সাথে এক প্রাণবন্ত আলাপচারিতায় তিনি তাঁর এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানান। তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, নাগরিকরা যেন রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা দুর্নীতিকে যেন শক্ত হাতে দমন করা যায়—এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের অন্যান্য সমস্যার সিংহভাগ সমাধান হয়ে যাবে। এই বিশেষ আয়োজনে তাঁর পাশে ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, যিনি নিজেও তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে নিজের আধুনিক চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে তারেক রহমান তাঁর প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে প্রায় ১৩৮টি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই, ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে এবং প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অব্যবস্থাপনা দূর করতেই ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করা হবে, যা হবে সর্বজনীন। বিশেষ করে স্বামীহারা নারী, তালাকপ্রাপ্তা কিংবা যারা ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবে জীবন যুদ্ধ চালাচ্ছেন, তারা এই কার্ডের আওতায় অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া কৃষক, ভ্যানচালক থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সকল পরিবারের গৃহিণীরা এই কার্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন, যা পরিবারের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করবে।

তরুণ প্রজন্মের ইন্টারনেটে আসক্তি এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, শিশুদের শৈশব থেকেই ন্যায়-অন্যায় এবং সঠিক-ভুলের পার্থক্য শেখানো জরুরি। মোবাইলের নেতিবাচক আসক্তি কমাতে তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া, তৃতীয় ভাষা, আবৃত্তি, কলা এবং শিল্প-সংস্কৃতিকে বাধ্যতামূলক করা, যাতে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকে। জাইমা রহমান এ প্রসঙ্গে যোগ করেন যে, সাইবার হয়রানি বন্ধে ‘ডিজিটাল এডুকেশন সিস্টেম’ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ‘কমিউনিটি ডেস্ক’ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রতিকার পাবেন। শিশুদের সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ শেখাতে ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দলগতভাবে পশু-পাখি পালনের দায়িত্ব দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার ওপর পরীক্ষা নেওয়ার এক অভিনব শিক্ষা পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

ঢাকার অসহনীয় যানজট নিরসনে তারেক রহমান বিকেন্দ্রীকরণ এবং পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রায় তিন কোটিরও বেশি মানুষের এই শহরের ওপর চাপ কমাতে দেশের প্রতিটি জেলা সদরের আশেপাশে ‘স্যাটেলাইট টাউন’ গড়ে তোলা হবে। এসব উপশহরে উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আধুনিক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যাতে মানুষকে কর্মসংস্থান বা উন্নত জীবনযাত্রার জন্য আর ঢাকা অভিমুখী হতে না হয়। এছাড়া ফেসবুকের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অফিস বাংলাদেশে আনার ব্যাপারেও বিএনপির ইতিবাচক চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তৌফিকুর রহমান, ফাতিমা আয়াত ও ইসরাফিলসহ মোট ১০ জন বিজয়ী এই আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা বিনিময় করেন এবং তারেক রহমানের কাছ থেকে আগামীর বাংলাদেশের এক আধুনিক রূপরেখা সম্পর্কে জানতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top