‘জনগণের সমস্যা শুনেই সমাধান করবে বিএনপি’: ভাষাণটেকে তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার

রাজধানীর ভাষাণটেকে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দলের জনকল্যাণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এক বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ক্ষমতার মোহ নয় বরং সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। সভার এক পর্যায়ে তিনি রাজনীতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে মঞ্চে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যেমন—ভ্যানচালক, গৃহিণী, ছাত্র ও বস্তিবাসীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দেন যে, আগামী দিনে প্রতিটি জনপ্রতিনিধিকে জনগণের দুয়ারে যেতে হবে এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শুনেই উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও যুবসমাজের উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা দেন যে, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘বিশেষ কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এছাড়া দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে তরুণদের কেবল প্রথাগত শিক্ষা নয়, বরং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর ফলে যুবসমাজ যেমন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, তেমনি তারা বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গিয়ে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। নারীদের ক্ষমতায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা প্রতিটি গৃহিণীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করবে।

ভাষাণটেকসহ সারাদেশের বস্তিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের আবাসন সমস্যা এবং জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখন সময় এসেছে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার। তিনি কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, বরং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যখন প্রতিটি স্তরে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নেতৃত্ব থাকবে, তখনই কেবল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে।

জনসভার শেষাংশে তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যখনই ধানের শীষ জয়ী হয়েছে, তখনই মানুষের ভাগ্য বদলেছে এবং দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং তাঁর ঘোষিত মানবিক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে রূপ দিতে তিনি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমর্থনে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top