ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম রাজনৈতিক অঙ্গনের সাম্প্রতিক সমীকরণ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম হিসেবে তাঁর দল ব্যবহৃত হবে না। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাঁদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে সেই ১১ দলীয় জোট ত্যাগ করেছে। চরমোনাই পীরের মতে, যারা গোপনে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে এবং ক্ষমতায় গিয়ে শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন বা ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ইচ্ছা রাখে না, তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা মানেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা।
রাজনৈতিক সততার প্রশ্নে নিজের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরে রেজাউল করিম বলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হননি এবং তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য কোনো মন্ত্রীত্ব বা বৈষয়িক সুবিধা অর্জন নয়। বরং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, ইসলামের আদর্শ প্রচার এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণই তাঁর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন, যারা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার নেশায় মত্ত, তারা পরীক্ষিত সঙ্গীদের সঙ্গে যেমন বিশ্বাসভাতকতা করতে পারে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গেও প্রতারণা করবে। দেশ ও জাতিকে নতুন কোনো অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া রোধ করতেই তাঁরা জোট থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং একক আদর্শিক অবস্থানে অটল রয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন যে, ১৯৭১ সালে সাধারণ মানুষ যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের আশায় দেশ স্বাধীন করেছিল, গত ৫৪ বছরের শাসনামলে তার প্রতিফলন ঘটেনি। এমনকি চব্বিশের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পরেও দেশের বিচার ব্যবস্থায় আশানুরূপ পরিবর্তন আসেনি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শপথ নেওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরও ছেড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, যা বীর শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দল সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
পথসভাটির শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরির আহ্বান জানান। তিনি এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, একটি সুন্দর ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে হলে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা জরুরি। গোলাম মসীহকে জয়যুক্ত করার মাধ্যমে দেশ ও ইসলামের কল্যাণে অংশীদার হওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সভায় গোলাম মসীহসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের দলীয় পরিকল্পনা ও নির্বাচনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







