দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন যে, কেবল পারস্পরিক কাদাছোড়াছুড়ি নয়, বরং উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট নীতি বা ‘পলিসি’ কেন্দ্রিক রাজনীতিই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই দূরদর্শী মতবিনিময় করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটির সাথে আলাপকালে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক বিতর্ক ও দেশ গড়ার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়া এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, দলগুলো কীভাবে জনগণের সমস্যার সমাধান করবে এবং তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথ কী হবে—সেসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকলেই দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি সম্ভব।
আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, যানজটসহ রাজধানীর বিদ্যমান নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে তিনি রাজধানীর চারপাশে আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন, যা সরাসরি ট্রেন যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। এর ফলে নাগরিকরা মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন এবং জীবনযাত্রায় গতি আসবে। এছাড়া ঐতিহাসিক পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলা এবং বুড়িগঙ্গা নদীকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে সংস্কার করার স্বপ্নের কথা জানান তিনি। তিনি বিশ্বাস করেন, বুড়িগঙ্গার তলদেশ থেকে পলিথিন ও বর্জ্য অপসারণ করে কয়েক ফুট খনন করা গেলে এই নদী তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।
দেশের সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন যে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের সকল নাগরিক ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, যারা সচ্ছল তারা স্বেচ্ছায় এই কার্ড ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন, যাতে প্রকৃত দরিদ্র মানুষরা রাষ্ট্রের দেওয়া সুযোগ-সুবিধাগুলো বেশি পরিমাণে ভোগ করতে পারে। কৃষিখাতে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে গ্রামের সাধারণ নারীদের ‘বিকাশ’ নম্বর সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে চরম নিন্দনীয় ও অনৈতিক কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিএনপি একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে আগামীর নেতৃত্ব। স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব নিয়ে তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবেন এবং তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ডিআরইউ-এর নিরপেক্ষতা ও নিয়মিত নির্বাচনের ঐতিহ্যের প্রশংসা করে তিনি সাংবাদিকদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেন। বৈঠক শেষে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ আগামী ৩০ জানুয়ারি তাদের পারিবারিক মিলনমেলায় সপরিবারে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।







