চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সেখানে একটি বড় ধরনের ‘কম্বাইন্ড অপারেশন’ বা যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে প্রথম সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জঙ্গল সলিমপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত ‘জঘন্য’ ও ‘নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, ওই এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব শাখা সম্মিলিতভাবে এই বিশেষ অভিযানে অংশ নেবে। সরকারের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার—অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এই নীতি বজায় রেখে অপরাধীদের সমূলে উৎপাটন করতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই যৌথ অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে জঙ্গল সলিমপুর থেকে লুট হওয়া অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা। শফিকুল আলম জানান যে, হারানো অস্ত্রগুলো ফিরিয়ে আনতে এবং ওই অঞ্চলকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মনোবল নিয়ে ওঠা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, এই ধরনের নেতিবাচক ঘটনা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করবে না। বরং অপরাধীদের এই স্পর্ধা দেখে তাদের কাজের স্পৃহা এবং অপরাধ দমনের সংকল্প আরও শক্তিশালী হবে। নির্বাচনের আগে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জঙ্গল সলিমপুরের এই অভিযান একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছে সরকার।







