রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা দখল নয়, বরং দেশের সাধারণ ও অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইল বস্তিবাসীদের আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উল্লেখ করেন যে, তিনি নিজেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেয়েও বড় মনে করেন এ দেশের সাধারণ মানুষের একজন সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে। নিজের বসতভিটা ও ঘর হারানোর ব্যক্তিগত কষ্টের স্মৃতির কথা স্মরণ করে তিনি কড়াইলবাসীর মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর বেদনা নিয়ে গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং জানান যে, মানুষের এই দুঃখ তিনি নিজের হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন।
দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন যে, মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং কৃষকদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি একটি বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের উদ্যোগ নিতে চান। বিশেষ করে কড়াইল বস্তি এলাকার শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সেখানে মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন হলো—এই পিছিয়ে পড়া জনপদের ছেলেমেয়েরা যেন কেবল দেশেই নয়, বরং বিদেশি ভাষায় দক্ষ হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে পারে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করে। এছাড়া দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যা নিরসনে বস্তিবাসীদের জন্য পরিকল্পিতভাবে ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং এলাকায় একটি উন্নত মানের ক্লিনিক স্থাপনের স্বপ্নের কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে চব্বিশের গণ-আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বিশ্বাস করেন যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত দোয়া এবং মহান আল্লাহর রহমত পাশে থাকলে এই উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমুখী কাজগুলো খুব দ্রুতই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। গণমানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।







