বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন যখন শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই রাজনীতির মাঠের প্রধান পক্ষ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এটিই রাষ্ট্রদূতের প্রথম সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বয়ং রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং তাঁর সঙ্গে দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এই আলোচনার টেবিলে ছিলেন এক শক্তিশালী প্রতিনিধিদল। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি বিষয়ক কারিগরি আলোচনার জন্য উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহাদী আমিন। প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে নানা বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এই আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিএনপির মতো একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই ঝটিকা সফর এবং দীর্ঘ বৈঠক বাংলাদেশের আগামীর রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।







