আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাপারে নিজেদের কঠোর ও অনড় অবস্থানের কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আবারও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় বিসিবি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা কোনোভাবেই ভারতে ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থানের পর বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে, যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান অভাবনীয়ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিসিবির এই দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং তারা প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের যে বিরোধ বিসিবি করছে, তাকে অত্যন্ত ‘যৌক্তিক’ মনে করে পিসিবি। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে না নিলে পাকিস্তানও এই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পুনর্বিবেচনা করবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে নাও খেলতে পারে—এমন একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছে তারা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও বিসিবি বা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাঠের বাইরে দুই দেশের এই রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় রসায়ন বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় বিসিবি ও পিসিবির মধ্যকার সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইসিসির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের বড় ম্যান্ডেট হিসেবে কাজ করছে। পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই আইসিসিকে তাদের মনোভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে তারা ‘চমকে দেওয়ার মতো’ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। মূলত ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এখন দুই দেশই একসুরে কথা বলছে, যা আইসিসিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।







