জামায়াত নেতাদের সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট সফল করতেই হবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সাথে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের অস্পষ্টতা বা অনিয়মের সুযোগ রাখা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, নির্বাচনে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে দেশের স্বার্থে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, কোনো গোষ্ঠী বা শক্তির বাধা সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং এই নির্বাচন হবে ইতিহাসে অন্যতম সেরা উৎসবমুখর ও স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়া।

নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এবার আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে অভূতপূর্ব কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানান যে, দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে খুব দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং আগামী জানুয়ারির মধ্যেই এই স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে যে কেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পোশাকে ‘বডি ক্যামেরা’ থাকবে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার ভিডিও ফুটেজ যেন প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকে, সেই ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া জনগণের সরাসরি অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করা হবে, যেখানে যেকোনো অনিয়ম বা ভয়ের পরিবেশ সম্পর্কে সাথে সাথেই জানানো যাবে। স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন, যেখানে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি প্রচারণার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানানো হয়। জামায়াত নেতারা উল্লেখ করেন যে, তারা আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবেন এবং একই সাথে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাও চালিয়ে যাবেন। গণভোটে সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন যে, সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো আইনি বাধা নেই। মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কারের চেতনাকে এগিয়ে নিতেই সরকার এই অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যা নির্বাচনি প্রস্তুতিতে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top