ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানি শেষে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বার্তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে টানা নয় দিনের আপিল শুনানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী বক্তব্যে সিইসি উপস্থিত আপিলকারী এবং আইনজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং ভোটের দিন পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবার সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি ভোটারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
নির্বাচন কমিশন কেন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিইসি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংক্রান্ত জটিল নিয়মটি শিথিল করার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কমিশন চায় না কোনো যোগ্য প্রার্থী নিছক আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ুক। সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতেই এমন নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই সাহসী পদক্ষেপের কারণে এবার ভোটের মাঠে প্রার্থীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সিইসি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ভোটারদের সচেতনতা তাঁকে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন এই সচেতনতাই একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং মেধা ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই রায় প্রদান করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ না দেখিয়ে কেবল ন্যায়বিচারের স্বার্থে কমিশন কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। আল্লাহতালার ওপর ভরসা রেখে এবং নিজেদের প্রজ্ঞা ও সক্ষমতার সবটুকু দিয়ে তারা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছেন। পরিশেষে, তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সাধারণ জনগণের কাছে এই আবেদন জানান যে, একটি বিতর্কহীন ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার যে চ্যালেঞ্জ কমিশন নিয়েছে, তা সফল করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।







