গুম-খুন হওয়া পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার তারেক রহমানের: নির্বাচনে জয়লাভ করলে শহীদদের নামে হবে সড়ক ও স্থাপনা

রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর আর্তনাদে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত এই আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, বিএনপি সর্বদা তাদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় দেশ ও স্বজনদের থেকে দূরে থাকলেও তাঁর মন পড়ে ছিল রাজপথের সেই সাহসী যোদ্ধাদের কাছে। তারেক রহমান স্বীকার করেন যে, সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সব সময় সবার পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি, তবে তাঁদের আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত ১৬ বছরে কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপির ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীকে দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলার বোঝা বইতে হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে ঘরবাড়ি ছেড়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে এবং অসংখ্য প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কৌশলের নামে বিএনপি কখনো গুপ্ত বা সুপ্ত পথ বেছে নেয়নি, বরং রাজপথেই বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি এক বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে, তবে এই আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ তাঁদের নামে করা হবে।

একই সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই পথে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের প্রতি সমতা আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপির রাজনৈতিক শিষ্টাচার বা ভদ্রতাকে যেন কেউ দুর্বলতা মনে না করে। সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্বজনহারা মানুষেরা যখন তাঁদের প্রিয়জনদের তুলে নিয়ে যাওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন পুরো সম্মেলন কেন্দ্রে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের শেষ পরিণতি কী হয়েছে তা আজও অজানা অনেকের কাছে, তাই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এসব প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top