মাঠে টাইগারদের দাপট, বাইরে বিতর্ক: অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে ধসিয়ে দিয়েও আলোচনায় বাংলাদেশ

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আল ফাহাদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভর করে ভারতকে মাত্র ২৩৮ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে আজিজুল হাকিম তামিমের দল। বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য এক ওভার কমে আসায় জয়ের জন্য এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৯ ওভারে ২৩৯ রান। টস জিতে শুরুতে বোলিং করার যে সাহসী সিদ্ধান্ত জাওয়াদ আবরার নিয়েছিলেন, টাইগারের যুবারা বল হাতে তার শতভাগ মর্যাদা রক্ষা করেছেন। ইনিংসের শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা, যার ফলে মাত্র ১১৯ রানেই ভারতের অর্ধেক ব্যাটিং লাইনআপ প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়।

ইনিংসে ধস নামানোর মূল কারিগর ছিলেন আল ফাহাদ। ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রে ও বেদান্ত ত্রিবেদীকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে তিনি যে তাণ্ডব শুরু করেছিলেন, তা শেষ হয় তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে। মাঝে ভারতীয় ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে ৭২ রানের ইনিংস খেললেও অধিনায়ক তামিমের চতুর বোলিং পরিবর্তনে তাঁকে বেশিক্ষণ থিতু হতে দেয়নি বাংলাদেশ। মাঝে বৃষ্টির কারণে ৬৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকলেও টাইগার যুবাদের মনসংযোগে কোনো চির ধরেনি। বিরতির পর ফিরে এসে আল ফাহাদ তাঁর বিষাক্ত স্পেলে ভারতের লেজ ছেঁটে দেন এবং স্মরণীয় এক ‘ফাইফার’ পূর্ণ করেন।

তবে মাঠের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে টসের সময় ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক শীতল অবস্থার মধ্যে টস শেষে দুই দলের প্রতিনিধিরা একে অপরের সাথে করমর্দন বা হাত মেলাননি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই বিতর্কের জন্ম দেয়। মূলত নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম অসুস্থ থাকায় তাঁর পরিবর্তে টস করতে গিয়েছিলেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান ক্রিকেটীয় সম্পর্ক যেখানে তলানিতে—বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল ইস্যু এবং বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতির প্রেক্ষাপটে—এই হাত না মেলানোর ঘটনাটি নেতিবাচক বার্তা ছড়ায়।

বিসিবির ব্যাখ্যা: এই বিতর্ক নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সাথে হাত না মেলানোর বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ‘অনিচ্ছাকৃত’ এবং এটি কেবল সাময়িক অসাবধানতার ফল। বিসিবি স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো প্রকার অশ্রদ্ধা প্রদর্শন বা ক্রিকেটের চেতনা লঙ্ঘনের অভিপ্রায় তাদের খেলোয়াড়দের ছিল না। নিয়মিত অধিনায়কের আকস্মিক অসুস্থতা ও পরিস্থিতির চাপে এই ভুলটি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। একইসাথে ভবিষ্যতে প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ ক্রীড়াসুলভ আচরণ বজায় রাখার জন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে জয় যখন হাতের মুঠোয়, তখন এমন ছোটখাটো বিতর্ক যেন টাইগারদের বড় অর্জনে ছায়া না ফেলে, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top