প্রথিতযশা সাংবাদিক ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশে আসার সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এই দাওয়াত দেন। বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব ও তাঁর নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে শফিক রেহমান বলেন, এখন সারা বিশ্বে মিস্টার ট্রাম্পের যুগ চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বাংলাদেশ সফর হবে এক অনন্য ঘটনা। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে আসার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানান।
শোকাতুর পরিবেশে বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শফিক রেহমান গভীর আক্ষেপের সঙ্গে বলেন যে, গত ৭ নভেম্বর ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি আমাদের ছেড়ে চলে না যেতেন, তবে হয়তো তিনি আরও কিছুদিন সুস্থভাবে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতে পারতেন। দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যারা এবার জীবনের প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন, তারা যেন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে এই শোকসভায় বিশিষ্টজনদের দেওয়া বক্তব্যগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করেন। দেশপ্রেম এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা এই অনুষ্ঠান থেকে তরুণদের গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে শফিক রেহমান এক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন এক অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত পার করছে। সামান্য কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচন যেন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ‘আনন্দময় নির্বাচন’-এর গ্যারান্টিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ভোটারদের কিছু মৌলিক বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যারা ভোট চাইতে আসবেন, তাদের কাছে সাধারণ মানুষকে চাল, ডাল, চিনির মতো নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকে রাখা সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রার্থীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
বিকেল ৩টায় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিশাল শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। এছাড়াও মঞ্চে ও শ্রোতার সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার এই আয়োজনটি কেবল একটি শোকসভা নয়, বরং দেশের আগামীর গণতান্ত্রিক পথচলার এক দিকনির্দেশনামূলক সমাবেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।







