আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে, তা থেকে তাদের নড়াচড়া করানোর সব চেষ্টাই এ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) একাধিকবার ইমেইল আদান-প্রদান এবং ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘না’ সূচক বার্তাই বহাল রয়েছে। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে একটি মধ্যস্থতায় পৌঁছাতে আইসিসি এবার তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তবর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিসিবির এই অনড় অবস্থানের কথাটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন যে, আইসিসির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে এই প্রতিনিধি দল আসার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। যদিও সফরের সময়সূচী এখনো শতভাগ নিশ্চিত নয়, তবে আইসিসি যে বিসিবির উদ্বেগ নিরসনে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী, সেটি এখন স্পষ্ট। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ যে বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চায় না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। আসিফ নজরুলের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহী, তবে তা ভারতের মাটিতে নয় বরং বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, আইসিসি চাইলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সহজেই শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে পারে এবং এটি আয়োজন করা কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।
এর আগে বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আইসিসিকে মেইল করা হয়েছিল। আইসিসি সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভার্চুয়ালি আলোচনা করলেও বিসিবি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে থাকা নিরাপত্তা আতঙ্ক বিসিবিকে ভারতের মাটিতে পা না রাখার সিদ্ধান্তে অনড় করে তুলেছে। বিশেষ করে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক কিছু তির্যক মন্তব্য এবং খেলোয়াড়দের একাংশের বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকির মুখে বোর্ড কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। এখন দেখার বিষয় হলো, আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বিসিবিকে ভারতের মাটিতে খেলার জন্য আশ্বস্ত করতে পারে, নাকি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে আইসিসি বাধ্য হয়।







