এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সৌজন্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি সপরিবারে যমুনায় প্রবেশ করেন, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। যদিও এই সাক্ষাতের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে সরকারের পক্ষ থেকে একে একটি একান্তই হৃদ্যতাপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এই বৈঠকটিকে রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও এক ধরণের পারিবারিক ও সামাজিক সৌজন্যের রূপ দিয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট নিয়ে আগেভাগেই আলোকপাত করেছিলেন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিকেলে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান যে, এই বৈঠকের কোনো পূর্বনির্ধারিত কঠোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। বরং এটি মূলত একটি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল-পরবর্তী দাফন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সরকারের স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিক সহযোগিতার জন্য তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতাবোধ এবং শোকের সময়ে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানোই ছিল এই সাক্ষাতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
যমুনার এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির শীর্ষ নেতার মধ্যে বর্তমান দেশের পরিস্থিতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সাথে সরকারের প্রধানের এই ধরণের পারিবারিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সরকারের সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা দেবে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এটিই তারেক রহমানের সাথে প্রধান উপদেষ্টার প্রথম সশরীরে সাক্ষাৎ, যা বাংলাদেশের আগামীর রাজনৈতিক পথচলায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্যের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।







