ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি চূড়ান্ত সমীকরণ: ১৭৯ আসনে লড়বে জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক মেরুকরণের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের ২৫৩ জন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পর জোটের বড় অংশীদার হিসেবে জামায়াতে ইসলামী একাই ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত বড় দলগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে এবং নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এই নির্বাচনি ঐক্যে পৌঁছেছে জামায়াত, যা আগামী ভোটের লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী জোটের অন্যান্য শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে তাদের প্রার্থী দিচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় ঘরানার দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি এবং খেলাফত মজলিস ১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি আসন পেলেও নতুন দল হিসেবে আলোচিত আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি উভয়েই ২টি করে আসনে জোটের পক্ষ থেকে লড়াই করবে। নির্বাচনি এই মহাপরিকল্পনা সাজাতে বৃহস্পতিবার সকালেই রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন, যেখানে আসন ভাগাভাগির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা হয়।

তবে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় একটি বড় চমক ছিল চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুপস্থিতি। আসন সংখ্যা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তারা এই বৈঠকে যোগ দেয়নি এবং জোটের অংশ হিসেবে তাদের নামও ঘোষণা করা হয়নি। যদিও সকালে মগবাজারের বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থানেই অটল থাকে। জোটের নেতারা মনে করছেন, ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ২৫৩টি আসনে এই সুসংহত প্রার্থিতা মাঠ পর্যায়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি সমীকরণে জামায়াত ও তার শরিক দলগুলো বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top