আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জোর তৎপরতা চলছে, ঠিক তখন পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সৌজন্যমূলক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্র এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সাক্ষাৎটি মূলত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে প্রশস্ত করার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডার চেয়ে বরং রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও সৌহার্দ্য বিনিময়ই ছিল এই সাক্ষাতের মূল প্রতিপাদ্য।
বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সাবলীল। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগত জোট নেতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁদের ব্যক্তিগত ও দলীয় সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। আলোচনার এক পর্যায়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় ঘটে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে দীর্ঘদিনের সাথী হিসেবে একে অপরের প্রতি যে আস্থা ও সৌহার্দ্য রয়েছে, এই সাক্ষাতে সেটিই যেন নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ধরণের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনি সমীকরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই বিশেষ সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। ১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ জোটের অন্যান্য প্রভাবশালী শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য যে, বিগত কয়েক বছর ধরে রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলনে এই জোটগুলো বিএনপির সাথে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের মধ্যকার বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে এবং মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এই ধরণের সৌজন্য সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।







