ভ্রমণ স্বাধীনতার বৈশ্বিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মর্যাদা আরও এক ধাপ সুসংহত হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য নাগরিকত্ব ও আবাসন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত ২০২৬ সালের সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই সূচকে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ পাঁচ ধাপ এগিয়ে এখন ৯৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে। যেখানে পূর্ববর্তী সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০ নম্বরে, সেখানে নতুন এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিক বিশ্বের অন্তত ৩৭টি দেশ ও অঞ্চলে কোনো ধরনের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন।
বৈশ্বিক এই তালিকায় শীর্ষস্থানটি নিজের দখলে রেখেছে এশীয় দেশ সিঙ্গাপুর। বিশ্বের ২২৭টি গন্তব্যের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা অবিশ্বাস্যভাবে ১৯২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের অধিকার রাখেন। তালিকায় এশীয় দেশগুলোর আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে যখন দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে জায়গা করে নিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এই দুই শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের নাগরিকরা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে অনায়াস যাতায়াতের সুবিধা পান। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের একগুচ্ছ দেশ—ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড, যাদের ভিসামুক্ত গন্তব্য সংখ্যা ১৮৬টি। এছাড়া ১৮৫টি দেশের প্রবেশাধিকার নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের মতো প্রভাবশালী ১০টি দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই তালিকায় দারুণ চমক দেখিয়ে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে, যারা গত দুই দশকে ৫৭ ধাপ এগিয়ে পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
সূচকের উল্টো পিঠে রয়েছে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দেশগুলোর করুণ চিত্র। হেনলি ইনডেক্সের ২০২৬ সালের তালিকায় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, যার নাগরিকরা মাত্র ২৪টি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়ার সুযোগ পান। তালিকার শেষ দিকে আফগানিস্তানের (১০১ নম্বর) ঠিক ওপরেই রয়েছে সিরিয়া ও ইরাক। মূলত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করেই এই র্যাংকিং নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, কারণ এটি কেবল পর্যটন নয় বরং আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসারেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।







