আগামী দিনের সংসদ আর কোনোভাবেই গতানুগতিক কিংবা কেবল স্তুতিবাক্যের কেন্দ্রবিন্দু হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পালাকাটা মাছঘাট স্টেশনে চিরিঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত মহিলা দলের এক বিশেষ কর্মী সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি জাতীয় সংসদ বিনির্মাণ করতে চায় যেখানে কেবলমাত্র নাচ-গান কিংবা নেতার গুণগানে সময় অপচয় হবে না। বরং সেই সংসদে প্রাধান্য পাবে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, উন্নয়ন ভাবনা এবং দীর্ঘদিনের লুণ্ঠিত গণতান্ত্রিক দাবিদাওয়া। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আগামীর সংসদে কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না এবং কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই ভবিষ্যতে আর লাইনচ্যুত বা পথভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগ পাবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গভীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এবারের ভোট কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রার গতিপথ নির্ধারণের নির্বাচন। তাঁর মতে, এটি হতে যাচ্ছে জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক মাহেন্দ্রক্ষণ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে এমন একটি সংসদ গঠন করা হবে যেখানে গঠনমূলক বিরোধিতা থাকবে এবং যার মধ্য দিয়ে পৃথিবীজুড়ে বাংলাদেশ একটি অনন্য গণতান্ত্রিক নজির স্থাপন করবে। সংসদ সদস্যরা সেখানে কেবল প্রশংসার স্তুতিবাক্য আওড়াবেন না, বরং মানুষের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে এই প্রবীণ নেতা আরও বলেন যে, আগামীর সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এমন এক টেকসই ভিত্তি পাবে যা ভবিষ্যতে যেকোনো স্বৈরশাসন বা অগণতান্ত্রিক শক্তির হাত থেকে দেশকে সুরক্ষা দেবে। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী (খোকন মিয়া), উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে মহিলা দলের এই কর্মী সভায় বিপুল সংখ্যক নারী নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করবে বলে সভায় বক্তারা মত প্রকাশ করেন।







