আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি মহলে যখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শক্তির দোসররা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত বা ভণ্ডুল করার হীন চেষ্টা চালাতে পারে। তবে বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
বৈঠক পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের কাছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা লক্ষ্য করেছেন যে, এবারের নির্বাচনে নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও আগ্রহ কাজ করছে। এই বিপুল উৎসাহের প্রেক্ষাপটে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি হবে অত্যন্ত সন্তোষজনক। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হবে এই নির্বাচনের বড় সফলতা এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রধান হাতিয়ার।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইইউ প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করেন যে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এই আলোচনায় আওয়ামী লীগ বা নির্দিষ্ট কোনো দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো বিশেষ আলোচনা না হলেও, ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেছেন যে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য এই নির্বাচনটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও সুসংহত করবে। প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধান উপদেষ্টা আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো অপশক্তির রক্তচক্ষু বা চক্রান্ত যাতে নির্বাচনের পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিকভাবে একটি গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশ নতুন এক গণতান্ত্রিক যুগে পদার্পণ করবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।







