স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফা টেলিফোন আলাপের ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের জরুরি অধিবেশনের অবসরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৈঠকে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান দৃঢ়তা নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, বাণিজ্যিক পরিধি বিস্তৃত করা এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধির বিষয়টি। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীই মনে করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া তাঁরা কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ই নয়, বরং বর্তমান বিশ্বের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেছেন।
উল্লেখ্য যে, জেদ্দার এই বৈঠকের আগে গত এক সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ লক্ষ্য করা গেছে। গত বুধবার রাতে তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ টেলিফোন আলাপ হয়েছিল। তারও আগে, গত রবিবার চীন সফররত অবস্থায় ইসহাক দার সরাসরি তৌহিদ হোসেনকে ফোন করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। একের পর এক এই ফোনালাপ এবং পরিশেষে জেদ্দায় সরাসরি বৈঠকের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড় ও সক্রিয় হয়েছে। ওআইসি-এর এই জরুরি অধিবেশনের ফাঁকে হওয়া এই বৈঠকটি আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।







