আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, মনোনয়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে যারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত দলের বৃহত্তর স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএনপির মতো বিশাল জনভিত্তিসম্পন্ন দলে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে প্রার্থী হয়েছেন, তবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তারা সরে দাঁড়াবেন—এমনটাই এখন হাইকমান্ডের প্রত্যাশা।
এ সময় তিনি দলের বর্তমান নেতৃত্ব ও আদর্শিক উত্তরাধিকার নিয়ে কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তারেক রহমানের নেতৃত্বের দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অঙ্গীকার করেছেন যে তাঁর মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, তিনি সেখান থেকেই নতুন যাত্রা শুরু করবেন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে তিনি গণমাধ্যমসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া তিনি আরও জানান যে, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং খুব শীঘ্রই তা জনগণের সামনে পেশ করা হবে।
একই অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচন (জকসু) নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সরকারি দলের প্রচ্ছন্ন মদতে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন কৌশলী ভূমিকা পালন করেছে, যার কুফল তারা এখন ভোগ করছে। তবে রূপান্তরমূলক এই সময়ে বিএনপির লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর আগে তিনি ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি’ (বিএমসিএস) আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীটি গভীর আগ্রহ নিয়ে পরিদর্শন করেন। পরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। এ সময় বিএমসিএস-এর সভাপতি মারুফা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদসহ অন্যান্য সদস্যরা তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন।







