ডিপ্লোম্যাটিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও জরুরি বৈঠকে বসেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি শুরু হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৈঠকের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করলেও এর সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলো মনে করছে, এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের নির্বাচনি প্রচারণার রূপরেখা চূড়ান্ত করা।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, অতি দ্রুতই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চেয়ারম্যান’ পদবি দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এতদিন ঝুলে ছিল। এই বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যানার ও ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহৃত হবে—তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি কাজ করছিল। আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই আইনি ও সাংগঠনিক জটিলতা দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই বিদেশের মাটিতে থাকলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বেই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দল পরিচালিত হয়ে আসছে।
বৈঠকের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল তারেক রহমানের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের ভঙ্গি। তিনি হেঁটে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন, যা নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর দলের নেতৃত্বে এই বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন কেবল নেতাকর্মীদের মনোবলই বাড়াবে না, বরং নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে এক শক্তিশালী বার্তা দেবে। দেশজুড়ে নির্বাচনি প্রচারণার ডামাডোলের মধ্যে তারেক রহমানকে দলের শীর্ষ পদে বসানোর এই সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।







