মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে দলবদ্ধ ধর্ষণের মতো এক নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী পেশায় একজন পোশাক কারখানার শ্রমিক। গত সোমবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে আটকে এই পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নারী চারজনকে অভিযুক্ত করে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার পুলিশ সেই মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সিজান মাহমুদ ও নাফিজ আহম্মেদ, যারা গত বছর গঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা কমিটির সাবেক সদস্য ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যদিও আন্দোলনের জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিতর্কিত এই কমিটি গঠনের মাত্র দুই দিনের মাথায় তা বাতিল করা হয়েছিল।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী কাজ শেষে কারখানার বাস থেকে নেমে যখন বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন পূর্বপরিচিত সিজান মাহমুদ তাঁকে ফোনে দেখা করার জন্য ডাকেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে সিজানের বাকি তিন সহযোগী তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন। এরপর নাফিজ আহম্মেদ তাঁর মুঠোফোনে ভুক্তভোগী নারীকে সিজানের পাশে দাঁড় করিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ও তাঁর গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রাতভর তাঁকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, এই পৈশাচিক ঘটনা কাউকে জানালে ইন্টারনেটে সেই ভিডিওটি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকিও দেয় অভিযুক্তরা। লোকলজ্জা ও প্রাণের ভয় উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ওই নারী আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমানে পুলিশ এই মামলার বাকি দুই আসামি রুবেল শেখ ও মো. সুমন শেখকে গ্রেপ্তারের জন্য চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। মহম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত ও তাঁর পরিহিত পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও অকাট্য প্রমাণ নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের এবং ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষা করানোর জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশ সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে যাতে কোনো অপরাধীই রেহাই না পায়।

