আন্তর্জাতিক জলসীমায় রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করার মার্কিন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানায় যে, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ‘নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের’ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তারা রুশ এই জাহাজটি আটক করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি মূলত ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, জাহাজটি আগে ‘বেলা–১’ নামে পরিচিত ছিল এবং আটলান্টিক মহাসাগরে দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন নজরদারিতে থাকার পর ধরা পড়া এড়াতে সেটির নাম পরিবর্তন করে রাশিয়ার অধীনে ‘মারিনেরা’ হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়। আটলান্টিকের এই ঘটনার পর ক্যারিবিয়ান সাগরেও আরেকটি জাহাজ আটক করে মার্কিন বাহিনী, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের একতরফা সামরিক ও আইনি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়াই বিদেশি জাহাজ আটক করা কেবল উস্কানিমূলক নয়, বরং এটি ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো দেশ যদি একতরফাভাবে অন্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা শক্তি প্রয়োগ করে, তবে চীন সবসময়ই তার বিরোধিতা করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন এই আচরণ বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিকে ব্যাহত করছে।
চীন এই ঘটনার গভীরতর বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কার্যক্রম সরাসরি জাতিসংঘ সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতিগুলোর পরিপন্থী। বেইজিং মনে করে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা এভাবে খর্ব করা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। মূলত অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং সমুদ্রপথে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার এই প্রচেষ্টাকে চীন একটি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অন্যায্য’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ঘটনার ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।







