ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রত ও অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বার্তায় তিনি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। মির্জা ফখরুল গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী স্বৈরাচারের পতনের পর পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা আবারও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা লুটার চেষ্টায় মত্ত হয়েছে। তিনি মনে করেন, মুছাব্বিরের মতো একজন রাজপথের ত্যাগী নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা সেই গভীর ষড়যন্ত্রেরই একটি নির্মম বহিঃপ্রকাশ। এসব দুষ্কৃতকারীকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর হস্তের দমনের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন যে, গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এই সন্ধিক্ষণে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা ওত পেতে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে তারা বারবার এ ধরনের লোমহর্ষক ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটাচ্ছে। মির্জা ফখরুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এবং সকল রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ না থাকে, তবে ফ্যাসিবাদী দোসররা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলবে। শোক বার্তায় তিনি নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ সংলগ্ন আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ইতিমধ্যেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।







