আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এবারের গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে কোনো শাসক যেন আর কখনও স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করার একটি রক্ষাকবচ। তাঁর মতে, বাংলাদেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে এমন কিছু মৌলিক ত্রুটি ছিল, যা বিগত সময়ে শাসকদের ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছিল। তাই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে সেই পথগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের গুরুত্ব ও এর পদ্ধতিগত বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করে জানান যে, এটি সাধারণ নির্বাচনের মতোই একটি প্রক্রিয়া হবে, তবে এর তাৎপর্য হবে সুদূরপ্রসারী। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দেবেন যে আগামী দিনের বাংলাদেশ কোন নীতিতে পরিচালিত হবে। নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোটার দুটি আলাদা ব্যালট পেপার পাবেন; যার মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য থাকবে সাদা রঙের ব্যালট এবং গণভোটের জন্য থাকবে রঙিন ব্যালট। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন কিংবা যারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের সেই মহান আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার দায়িত্ব এখন জীবিতদের ওপর ন্যস্ত।
রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বা ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বাস্তবায়ন করা গেলে সকল প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি এনজিও এবং উন্নয়নকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। সাধারণ মানুষের ওপর এনজিওগুলোর যে আস্থা রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণকে গণভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে গঠিত এই নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল সুশাসন নিশ্চিত করবে না, বরং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একটি স্থায়ী সমাধান হিসেবে কাজ করবে।







