ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: অংশীদারত্ব চুক্তি ও নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সমন্বিত অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়, যা খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পাওলা পাম্পালোনি জানান, দীর্ঘ দুই দশক সাধারণ চুক্তির আওতায় সম্পর্ক চলার পর এই নতুন অংশীদারত্ব চুক্তি দুই পক্ষের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গত ১৭ মাসে বাংলাদেশে যে ব্যাপক ও ‘অসাধারণ’ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ড. ইউনূস অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানুষ স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে তাদের মৌলিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই আসন্ন নির্বাচনটি কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের এক বিশাল উৎসব হতে যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে স্বাগত জানাবে এবং কেউ এই প্রক্রিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেবে না। ইইউ প্রতিনিধি দলও এই নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এরই প্রতিফলন হিসেবে তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি উচ্চপর্যায়ের বিশাল নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন বাংলাদেশে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইইউ মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই ঢাকা সফরে এসে রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন।

বৈঠকে অংশীদারত্ব চুক্তির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়। পাওলা পাম্পালোনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ বৈশ্বিক অর্থনীতির বৃহত্তম জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। ড. ইউনূস ইইউ-এর নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, এই অংশীদারত্ব চুক্তি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের পরিবর্তিত ও শক্তিশালী অবস্থানের চিত্র আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top