এলপিজি বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট, নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ দামে বিক্রির উৎসব

রাজধানীসহ সারা দেশের এলপিজি গ্যাসের বাজারে বর্তমানে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যেখানে সাধারণ ভোক্তার নাভিশ্বাস উঠলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চলমান অভিযানকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডি, মধুবাজার ও বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা গ্যাসের তীব্র সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন। অনেক ক্ষেত্রে দামাদামি করলে বা রসিদ চাইলে বিক্রেতারা সংযোগ কেটে দিচ্ছেন কিংবা গ্রাহকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। অভিযানের ভয়ে অনেক দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পর্দার আড়ালে পরিচিত গ্রাহকদের কাছে ঠিকই চড়া দামে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এই চরম সংকটের মধ্যেও কিছু ব্যবসায়ীর সততা সিন্ডিকেটের কারসাজিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বাড্ডার বেরাইদ এলাকার একটি দোকানে সরকার নির্ধারিত ১৩৫০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রির একটি রসিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে ন্যায্যমূল্যে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব। এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন তুলেছে যে, একজন ব্যবসায়ী যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারেন, তবে অন্য দোকানিরা কেন কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ মুনাফা লুটছেন। এই বৈষম্য ও লুটতরাজ রুখতে এখন ভোক্তাদের মধ্যেই সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকের বিভিন্ন স্থানীয় গ্রুপে প্রচারণা চালিয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস না কিনতে এবং প্রয়োজনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের হটলাইনে অভিযোগ জানানোর জন্য সচেতন করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল সরকারি অভিযান দিয়ে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট সমাধান করা কঠিন, যতক্ষণ না ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে। জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবীর খান বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে কিছুটা ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন যে, সরকার অভিযানের সংখ্যা ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন বা লোয়াব ডিলারদের পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়াকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছে। তারা জানিয়েছে যে, বিকল্প দেশ থেকে দ্রুত গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া চলছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে অচিরেই এই অস্থিরতা কেটে যাবে। তবে আপাতত সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—কাগজে-কলমে নির্ধারিত দাম যেন বাজারের বাস্তবতায় প্রতিফলিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top