🛩️
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সামরিক শক্তি ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান একটি শক্তিশালী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদ সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এই আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান ক্রয় করার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
বৈঠককালে দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সহযোগিতা বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচিত হয়। পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামো ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে বুনিয়াদি উড্ডয়ন থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বিশেষায়িত কোর্সসমূহ। এছাড়া, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুপার মুশশাক বিমানগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান বিমান বহরের পুরোনো যুদ্ধবিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশসীমা নজরদারিতে ব্যবহৃত এয়ার ডিফেন্স রাডার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জেএফ-১৭ থান্ডার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সাশ্রয়ী ও কার্যকর মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান। পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত এই বিমানটি সব ধরনের আবহাওয়ায় দিন-রাত সমানতালে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। এটি কেবল আকাশযুদ্ধেই নয়, বরং ভূমিতে আঘাত হানা কিংবা শত্রু সীমানায় নজরদারির কাজেও অত্যন্ত দক্ষ। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তানের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সামরিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক নতুন ও শক্তিশালী উচ্চতায় পৌঁছাল বলে ধারণা করা হচ্ছে।







